শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ - ১১:৩৭
শ্রী স্বামী সারঙ্গ, হিন্দু নেতা: ইরান বিশ্বের আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু

ভারতের বিশ্ব শান্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং ‘শহীদ নেতা’-র বিদায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথিদের একজন শ্রী স্বামী সারঙ্গ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে বলেন, নতুন বিশ্বব্যবস্থায় শান্তিপ্রিয় ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইরান তথাকথিত বিশ্বশক্তিগুলোর প্রভাব ভেঙে দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ইরানই বিশ্বের আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মীয় নেতা ও ভারতের বিশ্ব শান্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শ্রী স্বামী সারঙ্গ, যিনি বিদেশি অতিথি হিসেবে ‘শহীদ নেতা’-র বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইরানকে ‘প্রতিরোধ, শান্তি ও স্থিতিশীলতার দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ, নৈতিকতা এবং মানবিক মর্যাদার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

ইরান সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে সারঙ্গ বলেন, ইরান সবসময় যুদ্ধ ও যুদ্ধপ্রবণতা বিস্তার থেকে বিরত থেকেছে এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের পথে অগ্রসর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো জাতি বা রাষ্ট্র মানবিক মর্যাদা ও মানুষের কল্যাণকে সীমাবদ্ধ বা নিষিদ্ধ করতে পারে না।

ভারতের বিশ্ব শান্তি ফাউন্ডেশনের সভাপতি আশুরার ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, কারবালা শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি একটি সভ্যতা-নির্মাণকারী ধারা, যা নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বার্তা আজও সারা বিশ্বের স্বাধীনতাকামী ও ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

ইরানে খালি পায়ে উপস্থিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সারঙ্গ বলেন, এটি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার প্রতীক এবং কারবালার দুঃখ-কষ্ট ও আত্মত্যাগের স্মারক।

তাঁর ভাষায়, এই পথে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ তাঁর কাছে এক ধরনের ইবাদত এবং আশুরার মানবিক ও ঐশী আদর্শের সঙ্গে অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের প্রতীক।

ইরানের জনগণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইরানের রয়েছে প্রাচীন সভ্যতা, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং মূল্যবান ঐতিহ্য। এ দেশের মানুষ তাদের আচরণ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে তারা মানবিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

ইরানের সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণ মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং মৌলিক মানবিক মূল্যবোধে ফিরে যাওয়ার একটি আদর্শ। মুষ্টিবদ্ধ হাত একটি জাতির শক্তি, সংকল্প ও অবিচলতার প্রতীক এবং এটি বিশ্বকে জানায় যে ইরানের জনগণ ঐক্য ও সক্ষমতার অধিকারী।

তিনি বলেন, ইরানের জনগণ সবসময় সম্মান, মানবিক মর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথে চলেছে। যে জাতি মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদার ভিত্তিতে এগিয়ে চলে, তারা কখনো পরাজিত হয় না-যদিও তারা বিভিন্ন ধরনের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়।

সারঙ্গ আরও বলেন, ‘শহীদ ইমাম’ হযরত আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী সমসাময়িক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তাঁর মতে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা সবসময় মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং জাতিসমূহের মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণেই তাঁর ব্যক্তিত্ব বহু জাতি ও চিন্তাবিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি কেবল একজন অতিথি বা অংশগ্রহণকারী হিসেবে নয়; বরং তিনি ইরানের জনগণের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানাতে এসেছেন এবং তাঁদের শোকে নিজেকেও অংশীদার মনে করেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha